ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যেও গাজার শিক্ষার্থীরা তাওজিহি (উচ্চমাধ্যমিক সমাপনী) পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে মুসা পরিবারের তিন ভাইবোন, সামা, আবদুল্লাহ ও নাদা, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সামা পেয়েছেন ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ, আবদুল্লাহ ৯৪ দশমিক ৬ এবং নাদা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর।
সামা বলেন, গণহত্যার ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আবদুল্লাহ ও নাদা কোচিংয়ে যেতে না পারলেও শিক্ষকরা তাদের বাসায় গিয়ে পাঠদান করেন। তাদের মা হিন্দ মুহান্না বলেন, সন্তানদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে বড় করাই আজকের এই সাফল্যের ভিত্তি।
ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী তাওজিহি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শুধু গাজায় অংশ নেয় ৩৬ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় বসার আগেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয় এক হাজার ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী।
যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলেও শিক্ষকরা আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়া স্কুলেই পাঠদান চালিয়ে গেছেন। মাদুরে বসে ক্লাস করা, স্বজন হারানোর শোক নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি, সব বাধা পেরিয়েই শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে গেছে।
অনেকের জন্য সাফল্যের আনন্দ ছিল শোকের সঙ্গে মিশে থাকা। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের তালা আবু সুক্কার যুদ্ধের সময় বাবা, ভাই, বোন ও চার ভাতিজা-ভাতিজিকে হারিয়েও ৮৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা পাশে না থাকলেও তাদের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি এগিয়ে গেছেন।
শিক্ষক হানাহ আল-সাইয়েদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদান নয়, মানসিকভাবে সাহস জোগানোও ছিল সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তার মতে, শিক্ষা এখনো গাজার শিশুদের কাছে আশা, প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সূত্র: আলজাজিরা