'সমঝোতায় প্রথম পদক্ষেপ নিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান'

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেহরান কামরাভা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের নেওয়া অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতি সফল হবে কি না, তা নিয়েও চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

অধ্যাপক কামরাভা বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ইরানিরা আঞ্চলিক প্রতিবেশী—বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যাতে তারা পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য চাপ দেয়।

তিনি আরও যোগ করেন, অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে... ফলে কোনো পক্ষই নিজে থেকে প্রথম পদক্ষেপ নিতে বা সমঝোতার হাত বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি নয়।

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ কার্যকরের বিষয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করে এই বিশ্লেষক বলেন, তেহরান প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি মূলত অত্যন্ত দমনপীড়নমূলক। দেশটির নীতিনির্ধারকরা সাধারণ মধ্যবিত্তদের দুর্দশা নিয়ে সরাসরি কোনো তোয়াক্কা করেন না; তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ক্ষমতায় টিকে থাকা।

তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে আসছে, কিন্তু এতে তারা না পেরেছে সেখানকার সরকারকে সরাতে, না পেরেছে তাদের আচরণের রূপান্তর ঘটাতে। ফলে এখন এসে এই কৌশলটি কতটা ফলপ্রসূ হবে, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।