‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের রুনা খান। বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফ্রেন্ডশিপ একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা (এসপিও)। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে সবাই, বিশেষ করে যাঁদের কাছে পৌঁছানো কঠিন এবং যাঁদের প্রয়োজন উপেক্ষিত, তাঁরা মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাবেন।
সংস্থাটি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে এবং যেসব জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে, তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্রেন্ডশিপের এই লক্ষ্য প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া, পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুই ব্যক্তি এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি।
সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। তাঁর নামে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই বছর র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সালে প্রথমবার এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন। এবার তাঁর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রতিবছর এই দিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এবারের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের এমন কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যা ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এর মধ্যে রয়েছে অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে নিতে সহায়তা করা।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার মোট ছয়টি শ্রেণিতে দেওয়া হতো। সেগুলো হলো সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।
২০০০ সাল থেকে উদীয়মান নেতৃত্ব শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এই শ্রেণির পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া আর কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ নেই।