যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও কমেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মাত্র ৬টি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। আগের দিন মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ১১টি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা ছয়টি জাহাজের মধ্যে দুটি ছিল খুব বড় আকারের গ্যাসবাহী জাহাজ (VLGC), দুটি দীর্ঘপাল্লার ট্যাংকার, একটি সুপ্রাম্যাক্স ট্যাংকার এবং একটি প্যানাম্যাক্স ট্যাংকার।
বুধবারের ছয়টি জাহাজের সংখ্যা গত ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১৩টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এর আগে মঙ্গলবারও মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল, যা আগের দিনের ১০টি জাহাজের তুলনায় বড় পতন।
তবে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত সংখ্যা পরবর্তী সময়ে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ, অনেক জাহাজ সমুদ্রযাত্রার সময় তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। ফলে জাহাজ শনাক্তকারী প্রযুক্তির প্রাথমিক তথ্যে সব জাহাজের গতিবিধি ধরা নাও পড়তে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে সংঘাতের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।
জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার তেলের দাম বেড়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪৩ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.২০ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ২৪ সেন্ট কমে ৯০.৭৭ ডলারে নেমে আসে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান সম্প্রতি আরও ১১টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছে, ফলে তালিকাভুক্ত জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক চেকপয়েন্টে -এ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকলে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।