নেপাল-তিব্বত বন্যা

৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যার ৯ দিন পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ২ জন শ্রমিককে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম 'ত্রিশূলী ৩এ' (Trishuli 3A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৭০ মিটার গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত।

স্থানীয় টেলিভিশনে কাদায় ঢাকা প্রথম জীবিত উদ্ধারকৃত শ্রমিককে উদ্ধারে নিয়োজিত সেনাসদস্যের কাঁধে করে নিয়ে আসার দৃশ্য দেখানো হয়।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সঞ্জয় শাহ নামে এক শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কবীর মহারজন নামের অপর এক শ্রমিককে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।

গত সপ্তাহে নেপাল ও চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ গলে ধস নামায় পাহাড়ি নদী উপত্যকায় ভয়াবহ কাদা ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। আকস্মিক এই বন্যায় অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। তবে উদ্ধারকারী দলগুলোর ধারণা ছিল সুড়ঙ্গের ভেতরে 'এয়ার পকেট' (বাতাস চলাচলের স্থান) থাকায় অনেকে বেঁচে থাকতে পারেন। সেই আশাতেই সুড়ঙ্গ কেন্দ্রিক উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়, যেখান থেকে এ পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে জমে থাকা পুরু কাদা ও ভারী পাথর সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে দিন-রাত কাজ করছে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দলগুলো।

নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে আনুমানিক ৫০০ জন শ্রমিক এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান