জাহাজে হামলা বন্ধ না হলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়: যুক্তরাষ্ট্র

ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ আবার খুলতে পারে। তবে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না।

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। তাঁর দাবি, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে বৃহত্তর জ্বালানি সংকট ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

তিনি একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকৃতি জানান। ভ্যান্সের ভাষ্য, বড় ধরনের সামরিক অভিযান অনেকটা শেষ হলেও বিচ্ছিন্ন সংঘাত এখনো চলছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ রয়েছে।

যুদ্ধ শেষের সময়সীমা নেই

ইরানের সঙ্গে সংঘাত কবে শেষ হতে পারে—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের কর্মকাণ্ডের ওপর।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ফিরবে না। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ দশমিক ৬৭ ডলারে উঠেছে। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯১ দশমিক ৫৬ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল।

কূটনীতির পথ কতটা খোলা?

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছিল। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয়নি।

ফলে সামরিক চাপ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং তেলের বাজার—এই তিনটি বিষয় এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা নরম হয় তার ওপর।