চাপে পড়ে ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহতদের ঘটনার তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় ৫ জন নিহত ও অন্তত ৬৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হামলাটি মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ঘটনায় কী ঘটেছে তা জানতে চায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ভুল করে থাকলে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায়। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলা হয়। সেখানে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, আহতদের মধ্যে ২২ বছর বয়সী আরও একজন নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের দাবি, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার অংশ ছিল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে নতুন তথ্য

এদিকে রয়টার্সের অনুসন্ধান ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভবনটিতে বিস্ফোরণের ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটি কোনো মার্কিন অস্ত্রের সরাসরি আঘাত হতে পারে। যাচাই করা ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভবনের ছাদে সরাসরি কোনো গোলাবারুদ আঘাত করার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির ধরনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার, সামুদ্রিক অবকাঠামো ও যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। কুহেস্তাকের বিয়ের অনুষ্ঠানের স্থান থেকে প্রায় ১৩৫ মিটার দূরে একটি যোগাযোগ টাওয়ারও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল। তবে ওই বাড়িটি লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ইরানে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সংস্থাটি ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করেছে।

মার্কিন বাহিনী অবশ্য বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে কোনো সামরিক অভিযানে ভুল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—ভ্যান্সের বক্তব্যে সেই অবস্থানই উঠে এসেছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইরানের বেসামরিক এলাকায় এই হামলার অভিযোগ সামনে এলো। ফলে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে এসেছে।