উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উদ্ধারকারীরা আরও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করার পর প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। এখনো ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত রোববার উত্তর সাইপ্রাসের কিরেনিয়া বন্দর থেকে তুরস্কের তাসুজু বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ফিলো জেট (Filo Jet) নামের দ্বৈত-হুলের একটি ফেরি। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই সেটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং পরে এটি উল্টে ডুবে যায়। ফেরিটিতে ২৬৭ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ২৩৯ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং ২০ জন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাগর ও ডুবে যাওয়া ফেরির ভেতর থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হয়েছে।
শুক্রবার উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানান, তুরস্কের নৌবাহিনীর দুটি বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ—টিসিজি ইশিন ও টিসিজি আলেমদার—গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ডুবে যাওয়া ফেরিটির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ মিটার গভীরে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তুরস্কের নৌবাহিনী পানির নিচে পরিচালিত রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা আরওভি ব্যবহার করছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে সমুদ্রতল এবং ডুবে যাওয়া ফেরির আশপাশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের উদ্ধারে সাতটি জাহাজ ও ছয়টি বিমানও তল্লাশি অভিযানে যুক্ত রয়েছে। উদ্ধারকারীরা উপকূল, সমুদ্রতল এবং ডুবে যাওয়া ফেরির আশপাশে দিন-রাত অভিযান চালাচ্ছেন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, ফেরিটি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করেছিল এবং পরে প্রচণ্ড ধাক্কার মতো শব্দ হয়। এর পরপরই পানি ঢুকে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং ফেরিটির চলাচল নিয়েও তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনার ঘটনায় ফেরির ক্যাপ্টেনসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্ত চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফেরিটির চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও খতিয়ে দেখছে।
উত্তর সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; দ্বীপটির উত্তরাঞ্চল তুরস্কের সমর্থিত তুর্কি সাইপ্রিয়ট প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তুরস্ক উদ্ধার অভিযানে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে।
নিখোঁজ ১৬ জনের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গভীর সমুদ্রে ডুবে থাকা ফেরির অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় এখন উদ্ধারকারী দলগুলো ফেরিটির ভেতর ও আশপাশে আরও মরদেহ বা জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে।