ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভিরকে থামাবে কে?

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ফিলিস্তিন নীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

বর্তমান পদে আসীন হওয়ার পর তিনি ইসরায়েলের পুলিশ বিভাগ এবং কারাগার ব্যবস্থার উপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। একই সঙ্গে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো, কারাগারের পরিবেশকে অত্যন্ত কঠোর করা এবং ফিলিস্তিনি কয়েদিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে তিনি ক্রমাগত সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনিদের অপমানিত ও হেয় প্রতিপন্ন করা যেন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করার অপরাধে আটক মানবাধিকার কর্মীদের কায়দা করে কটূক্তি ও উপহাস করার বিভিন্ন দৃশ্যও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু কারাগারের ভেতরের সহিংসতাই নয়, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়েও বেন-গভিরের বক্তব্য অত্যন্ত উসকানিমূলক। তিনি গাজায় প্রতিদিন রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রকাশ্যে তাগিদ দিয়েছেন, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ইন্ধন জুগিয়েছেন এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

একসময় ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতেই যাকে অত্যন্ত 'উগ্র ডানপন্থী' হিসেবে গণ্য করে দূরে রাখা হতো, আজ তিনি ফিলিস্তিনিদের জীবনের ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেন-গভিরের চরমপন্থী মন্তব্যে আজ আর কেউ অবাক হচ্ছে না—আর এটিই সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়। দিন দিন তিনি নতুন সব সীমা অতিক্রম করলেও প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল ও বিশ্ব নেতৃত্ব তাঁকে আর কতদূর যেতে দেবে?

সূত্র: আল-জাজিরা