বিমানবন্দরের রেডিওতে বাবাকে চিনে ফেললেন পাইলট মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকাশপথের নিয়মিত যোগাযোগ হঠাৎই পরিণত হলো এক মজার পারিবারিক মুহূর্তে। একই বিমানবন্দরে আলাদা দুটি বিমানের পাইলট হিসেবে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাবা ও মেয়ে। এ সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে বাবার কণ্ঠ শুনে মেয়ের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে—‘পপস?’

ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর। বাবা কেন্ট কাটনিক তখন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১০৮ নিয়ে মিউনিখের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ২৪ বছর বয়সী মেয়ে কেনি কাটনিক কমিউটএয়ার পরিচালিত ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের ফ্লাইট ৪৯৭৭-এর পাইলট হিসেবে সিরাকিউজের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

রেডিওতে বাবার কণ্ঠ শুনে কেনি বুঝতে পারেন, পরিচিত কণ্ঠটি তাঁর বাবার। তিনি বলেন, ‘পপস?’ জবাবে বাবা জানতে চান, ‘হ্যালো, তুমি কোথায়?’

মেয়ে জানায়, সে রানওয়ে ১-আর থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর দুজন একে অপরকে নিরাপদ যাত্রার শুভেচ্ছা জানান এবং বিদায় নেন।

তবে ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি। রেডিওতে থাকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার কথোপকথনটি শুনে মজা করে জানতে চান, ‘ওটা কি আপনার মেয়ে? আপনি নিশ্চয়ই গর্বিত বাবা?’

কেন্টের জবাব—‘কিছুটা।’

এরপর কথোপকথন আরও মজার দিকে মোড় নেয়। কন্ট্রোলার জানতে চান, মেয়ে কি এখনো বাবার সঙ্গে থাকেন? কেন্ট জানান, তিনি বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকেন, তবে এখনো বাবার মোবাইল ফোনের পারিবারিক প্ল্যানে রয়েছেন।

কন্ট্রোলার মজা করে বলেন, বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে সেই প্ল্যান থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কথোপকথন শুনে কেনি তখন রেডিওতেই বলে ওঠেন, ‘আমি সিঙ্গেল।’

এই মন্তব্যের পর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে হাসির পরিবেশ তৈরি হয়।

কেনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ছোটবেলা থেকেই তাঁকে বিমান চালানো শেখানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় এক দশক আগে দুই আসনের একটি ছোট বিমানে বাবার কণ্ঠই ছিল বিমানের রেডিওতে শোনা তাঁর পরিচিত প্রথম কণ্ঠ। তাই বহু বছর পরও রেডিওতে বাবার কণ্ঠ শুনে তিনি মুহূর্তেই চিনে ফেলেন।

ডালেস বিমানবন্দর পরে ঘটনাটির ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশন দেয়—কর্মস্থলে বাবার সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও মজা করে লিখেছে, তাদের ‘আজীবনের পারিবারিক ফোন প্ল্যান’ যেন চলতেই থাকে।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই পারিবারিক কথোপকথনই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মন জয় করেছে। পাইলটদের কঠোর ও আনুষ্ঠানিক রেডিও যোগাযোগের মধ্যেও বাবা-মেয়ের এই স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন আর মজার এক অনন্য উদাহরণ।