মরক্কো থেকে অভিবাসী ঢলের আগাম আঁচ পেয়েছিল স্পেন

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের একদিন আগেই সম্ভাব্য গণহারে সীমান্ত পার হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি অবমুক্ত করা ৪০টি নথিতে উঠে এসেছে এ তথ্য।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায়, গত ২৯ জুলাই স্পেনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সেন্টার (সিএনআই) সেউতায় থাকা স্পেন সরকারের প্রতিনিধি দপ্তরকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আহ্বান সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

সিএনআইয়ের পাঠানো সতর্কবার্তায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সীমান্তের বেড়ায় হামলা এবং সমুদ্রপথে প্রবেশের’ আহ্বান জানানো হচ্ছিল। পরদিন রাত ৮টার দিকে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপের অনুসারী মিলিয়ে সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার। সতর্কবার্তায় বলা হয়, এর মাধ্যমে প্রচারণাটির ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল।

একই দিন স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থা মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসটি ও ডিজিইডিকেও সতর্ক করে। জানানো হয়, অভিবাসীরা সীমান্তের বেড়া টপকে কিংবা সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। ৩০ জুলাই মরক্কোর জাতীয় ‘থ্রোন ডে’ উদযাপনের সুযোগ নিয়ে এমন চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল সিএনআই।

এরপর ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউতায় প্রবেশ করে। অবমুক্ত নথি প্রকাশের পর সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় স্পেন সরকারের ভূমিকা নিয়ে সেউতায় প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় মরক্কোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথি থেকে এমনটা বোঝার সুযোগ নেই যে সরকার ৩০ ও ৩১ জুলাইয়ের মতো ব্যাপক সীমান্ত সংকটের আগাম সতর্কতা পেয়েছিল।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ বলেন, এই প্রচারণার অস্তিত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানত এবং তা পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাপ্তি, ধরন বা সম্ভাব্যতা সম্পর্কে এটি কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না।

সূত্র: আলজাজিরা।