যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাসব্যাপী সংঘাতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ইরান আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ তথ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে; ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় সীমিত পরিমাণে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। বিদ্যমান যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে দেশটির কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাও রয়েছে।
নতুন করে মার্কিন হামলা হলে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ইরান আরও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন কেন্দ্র তৈরির কাজ করছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও জ্বালানি তৈরির উপকরণ আমদানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর ইরান আবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে।
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবারের ধারণা, ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার আগের দাবিই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দ্য হিলকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নজর রাখছে এবং দেশটির প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেলও দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীর শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সকে জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে শিগগিরই আরও কিছু ঘোষণা আসবে। মন্ত্রণালয় বলছে, ‘শিগগিরই আপনারা এই হিমশৈলের চূড়া দেখতে পাবেন।’
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবারের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছেন। নিউজ নেশনকে তিনি বলেন, ‘কোনো ক্ষতি হয়নি, একেবারেই হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির মধ্যবর্তী নির্বাচন বিষয়ক সম্মেলনে যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত শেষ হয়ে যাবে। পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, নভেম্বরের নির্বাচনের পরও সংঘাত চলতে পারে। ট্রাম্প বলেন, আলোচনা হতে পারে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে না।