হরমুজ প্রণালি খুলতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তেহরান এই বৈঠককে কেবল জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর আলোচনা হিসেবে দেখছে না। বরং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আনতে চাইছে তারা।

তেহরানের অবস্থান হলো—আঞ্চলিক সংকটের সমাধান আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় উপকূলবর্তী দেশগুলোর অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে ইরান।

ইতোমধ্যে ইরান ও ওমান প্রণালি দিয়ে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদে নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ এবং জাহাজ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী কিংবা এর কাছাকাছি অবস্থান করছে, তাদেরও প্রক্রিয়াটিতে যুক্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের দৃষ্টিতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখলে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শুধু একটি দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না; বরং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনও বিবেচনায় নেবে।

তেহরানের এই উদ্যোগের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে নৌপথটি স্বাভাবিক রাখা শুধু ইরান বা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিষয় নয়, এর সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও জড়িত।

এ অবস্থায় ইরান চাইছে, হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমাধান হলে সেটি যেন বাইরের শক্তির একক উদ্যোগের পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।