যুক্তরাজ্যে কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল এবং ব্যাপক বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পেছনে সামরিক একটি বিমানের দেওয়া ভুল ফ্লাইট তথ্য ভূমিকা রেখেছিলো বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক বিমান এমন কিছু ‘স্পিউরিয়াস’ বা অসংগত ফ্লাইট তথ্য প্রবেশ করায়, যা পরবর্তী সময়ে দেশটির বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করে।
ঘটনার বিষয়ে অবহিত চার ব্যক্তি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, সামরিক বিমানটির জমা দেওয়া ফ্লাইট পরিকল্পনা থেকেই একাধিক সমস্যার সূত্রপাত হয়। এর পরিণতিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য যুক্তরাজ্যের আকাশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
সূত্রগুলোর দাবি, ওই তথ্য প্রবেশের পর দেশটির বৃহত্তর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেমে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একাধিকবার সিস্টেম পুনরায় চালু করার চেষ্টা করতে হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
তবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS) শুরুতে ঘটনাটিকে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এর পরই বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার ও বুধবার হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়।
ঘটনার পর NATS-এর প্রধান মার্টিন রলফ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বিমান চলাচলে সৃষ্ট ব্যাপক বিঘ্নের জন্য ক্ষমা চান।
এদিকে পুরো ঘটনার কারণ নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্তের ফল ছয় মাসের মধ্যে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে NATS যে নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, সেটিকে রলফের ভবিষ্যৎ অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি বলেছেন, কী ঘটেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলে কাউকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া সঠিক হবে না।
এখন তদন্তের মূল প্রশ্নগুলোর একটি হলো—সামরিক বিমানের ফ্লাইট পরিকল্পনায় দেওয়া তথ্য কীভাবে জাতীয় বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এমন বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পূর্ণ কারণ ও দায় নির্ধারণে NATS-এর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটির স্বাধীন তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।