ইসরায়েলি বিমান হামলার এক দিন পর দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহর আকস্মিক সফর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন লেবাননের সেনাপ্রধান জেনারেল রোদলফ হায়কাল।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নাবাতিয়েহে শহরের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল দাবি করেছিল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের রিজ বা পাহাড়ি এলাকায় তারা ‘অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
আলি আল-তাহের রিজ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। উঁচু এই এলাকা থেকে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা যায়।
ইসরায়েলের দাবি, ওই পাহাড়ি এলাকার নিচে হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ রয়েছে। সেগুলো ধ্বংস করতে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালানোর পর চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কার্যক্রমের সঙ্গে ওই কম্পনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে কম্পনের প্রকৃত কারণ এবং ইসরায়েলি অভিযানের সঙ্গে এর সরাসরি যোগসূত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নাবাতিয়েহ দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। দীর্ঘদিন ধরে এটি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার পর প্রেসিডেন্টের এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের নজরদারির বিষয়টি সামনে এনেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে আলি আল-তাহের রিজের মতো কৌশলগত উচ্চভূমির নিয়ন্ত্রণও সংঘাতের সামরিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলছে।