গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেওয়া একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে প্রায় ৭০ জন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভবনটি এর আগে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে চলছে। ভারী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের উদ্ধারে দলগুলো কাজ করছে।
গাজায় ভবন ধস ও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষের আটকে থাকার ঘটনা নতুন নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাব।
গাজা সিটিতে চলমান হামলা, বাস্তুচ্যুতি ও আবাসিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, গাজায় আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলার পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ধসে পড়া ভবনটির ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।