এক দশকে প্রথম মক্কায় কড়া নিরাপত্তা সতর্কতা

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরিফ মক্কা নগরীতে অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম প্রতিদিন নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করেন। সেই মক্কায় প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম কড়া নিরাপত্তা সতর্কতা জারির ঘটনা ঘটেছে। 

চলতি বছর মে মাসের শেষ দিকে হজ মৌসুমে সৌদি আরবে প্রায় ১৭ লাখ মুসল্লি সমবেত হয়েছিলেন। সে সময়ও দেশটি সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে ছিল। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ, যা সামর্থ্যবান মুসলিমদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। শুধু হজ নয়, সারা বছরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যান। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর; এই দুই মাসেই ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করতে মক্কায় গিয়েছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে ছাড়া আধুনিক সময়ে হজে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের নজির খুবই সীমিত। ওই বছর সংক্রমণ ঠেকাতে সৌদি আরব বিদেশি মুসল্লিদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এবং মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর এসব হামলা হজ ও ওমরাহ পালনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মক্কায় ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ বা হজ-ওমরাহ পালনে নতুন কোনো বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় আগুন লাগার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হুতিদের হামলায় আট সেনা নিহত হয়েছেন বলে দুটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকায় কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘ডজন ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবিও করেছে হুতিরা।

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের লড়াই জুলাইয়ে আবারও তীব্র হয়। ওই সময় সৌদির বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করে লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর কর্মকর্তা হাজেম আল-আসাদ বলেছেন, সৌদি আরব তাদের জনগণের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ চালিয়ে গেলে ইয়েমেনের পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও বাড়বে।

এদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলে মঙ্গলবার সতর্ক করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেছেন, প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে। অন্যদিকে সৌদি যুবরাজের হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, শনিবার হুতিরা ওয়াশিংটনে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে না জড়াতে অনুরোধ জানিয়েছিল।

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাবকে ঘিরে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় সৌদি নেতৃত্বও পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের বিকল্পগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও এনডিটিভি