দীঘদিন কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ছাড়া চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিয়ে পরিচালিত হওয়ার পর অবশেষে সৌদি আরবে নতুন প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক সেনাকর্তা ওয়েসলি হান্টকে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাস থেকে নির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রতিনিধি এমন এক সময়ে মনোনয়ন পেলেন যখন মধ্যপ্রাচ্যে চরম আঞ্চলিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রিয়াদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তাকে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পেতে হবে। আফ্রিকান-আমেরিকান ঐতিহ্যের এই কূটনীতিক মাইকেল র্যাটনির স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও মাইকেল র্যাটনি তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার বিশেষ ছাপ রেখে গেছেন।
ওয়েসলি হান্টের সামরিক পটভূমি ও রিয়াদে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আট বছর অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে সেনাবাহিনীতে সেবা দেন।
ইরাকে ৫৫টি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি সৌদি গ্রাউন্ড ফোর্সের সাথে দুই মেয়াদে কূটনৈতিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্পের অত্যন্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা পরবর্তীতে কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ২০২৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হন।
এক্সে দেওয়া বার্তায় হান্ট জানান, সিনেটের অনুমোদন পেলে তার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে শত্রুদের মোকাবিলা করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিখ্যাত 'শক্তির মাধ্যমে শান্তি' নীতির আওতেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ক্ষেত্রে কাজ পরিচালনা করবেন।
সৌদি আরবে সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিত্বদের রাষ্ট্রদূত বানানোর ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। এর আগে সেন্টকমের সাবেক প্রধান জন অ্যাবিজায়েদ ও সাবেক বিমান বাহিনী পাইলট জেমস বি স্মিথ রিয়াদে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স