পাকিস্তান হামলা চালালে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তান কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা হলে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে কাবুল।

আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার বা জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে আফগান ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালালেও তা মেনে নেওয়া হবে না। আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থানরত পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) সদস্যরা সেখানে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক পৃথক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রও আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেন।

তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তার দাবি, আফগানিস্তানের মাটিতে টিটিপিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয় না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দেশটির অভ্যন্তরেই করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুজাহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, টিটিপি ও বেলুচ গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই চলে আসছে।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র। একই সঙ্গে বিরোধ নিরসনে সৌদি আরবকে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুজাহিদের মতে, সৌদি আরব দুই দেশেরই বন্ধু এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ কমাতে দেশটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে সৌদি আরব আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয়টিকে তারা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদ বলছে, আফগান পক্ষ সহযোগিতা করলে সীমান্ত, বাণিজ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তপারের হামলা, টিটিপির তৎপরতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। সর্বশেষ বক্তব্যে তালেবান একদিকে সম্ভাব্য পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।