চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মধ্য মালিতে জঙ্গি হামলায় ১০০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মালির ডিওরা শহরে গত ১০ সেপ্টেম্বরের এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার শিকার সামরিক ক্যাম্পটি থেকে সফলভাবে সেনাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। যেখানে শত্রুদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে সেভারে শহরের বিমানবন্দরে চালানো আরেকটি হামলা ছিল মূলত আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘জেএনআইএম’-এর সাম্প্রতিক সহিংস তৎপরতার অংশ। ২০২০ ও ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মালির ক্ষমতা দখলকারী বর্তমান সেনা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে জেএনআইএম এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘এফএলএ’ যৌথভাবে দেশজুড়ে এক ভয়াবহ সিরিজ হামলা চালায়। ওই হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন এবং দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয়, ইসলামপন্থী উগ্রবাদী ও বিদ্রোহীদের দমনে মালির সরকারি বাহিনী এবং তাদের সহযোগী যোদ্ধারা মাঠে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা সাফল্য অর্জন করতে পারছে না।
এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বরের ডিওরা শহরের হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৩০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনেরও বেশি সেনাকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা। অন্যদিকে, একটি কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১২০ জন সেনা নিহত হয়েছেন; যা মালির সামরিক জান্তার জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মালির সেনাবাহিনী একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা তাদের পাল্টা অভিযানে কিছু বীর সেনা সদস্য দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। সেই সাথে এই বিশেষ অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠীটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা সম্ভব হয়েছে।