ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী মোকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম সাবা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবার দাবি অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। আহত আটজনের মধ্যেও একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা হামলাটিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত মোকা ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। সাম্প্রতিক সময়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুথিরা মোকা দখলে নেয় বলে হুথি ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাতে এপি জানিয়েছিল। শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এর সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। মোকা থেকে বাব আল-মান্দেবের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণ করেছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথিদের অবস্থানে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে আসছে।
মোকা দখলকে হুথিদের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডগত সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে এপি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পর এমন অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে আবারও বড় আকারের সংঘাতে পরিণত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে ইয়েমেনের গভর্নিং বডির প্রধান রাশাদ আল-আলিমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সহায়তা চেয়েছেন বলে তাঁর কার্যালয়ের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
সূত্রটির দাবি, রোববারের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সামরিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে আল-আলিমির কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সংকটাপন্ন সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যেও এই আলোচনা হয়েছে।
এর আগে হুথিদের অগ্রযাত্রার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তার অনুরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মোকায় সর্বশেষ হামলার ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেবের কাছে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।