চীন থেকে ইরানে গেছে ১৩'শ চালান অস্ত্রের যন্ত্রাংশ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন থেকে ইরানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রায় ১ হাজার ৩০০টি চালান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। ইরানের কাস্টমস তথ্যের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব চালানের অনেকগুলোতেই এমন ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য উপাদান ছিল, যা বেসামরিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতেও কাজে লাগতে পারে।

এর মধ্যে একটি চালান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনই ইরানে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিল মাসে দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল। ওই দিন চীন থেকে আসা চালানটিতে এমন ইলেকট্রনিক উপাদান ছিল, যা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব বলে কাস্টমস নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এর মাত্র দুই দিন পর আরও একাধিক চালান ইরানে পৌঁছায়। এসব চালানে থাকা ড্রোন তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশের মূল্য ছিল ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি বলে জানিয়েছে WSJ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও চীন থেকে ইরানে কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বিমানপথ ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে পরিণত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

ইরানের কাস্টমস রেকর্ডে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো পণ্যের মধ্যে GPS ডিভাইস, বৈদ্যুতিক মোটর, বিমানের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ইরানকে সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহের বিষয়টি ওয়াশিংটনের নজরদারিতেও এসেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনা একটি ক্রয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যেটিকে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চীন অবশ্য ইরানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য ও সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে চীন-ইরান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এখন ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

WSJ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে আসা এসব সরবরাহ ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।