ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান পর্যায়ের একটি জরুরি সামরিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই বৈঠক হবে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায়। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সৌদি আরবের জাতিসংঘ মিশনে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন। এতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অংশ নেন।
বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সৌদি আরবকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে বলে সৌদি সূত্র জানিয়েছে।
মক্কা ও সৌদির স্থাপনায় হামলার নিন্দা
তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মক্কা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষার সক্ষমতার প্রশংসা করেন তারা।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে কোনো সদস্যরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে।
তবে বৈঠকে কেবল সামরিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়নি। আঞ্চলিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আইন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও আলোচনায় আসে।
নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
আলোচনায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা সৌদি ভূখণ্ডের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তিন দেশ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং চলমান সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় কী হতে পারে?
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ৭ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। এতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।
এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছিলেন, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হতে পারে এবং চুক্তির আওতায় তুরস্ক সেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে পাকিস্তান তখন জানিয়েছিল, হুথিদের হামলার জবাবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়নি; প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে নতুন জরুরি বৈঠককে সরাসরি তিন দেশের সামরিক অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার কাঠামো নিয়ে তিন দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেই এটি সামনে এসেছে।
হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে এই বৈঠক থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চাহিদা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য বিবৃতিতে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
একই সঙ্গে তিন দেশ উত্তেজনা কমানো ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছে। ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সামরিক দিকের পাশাপাশি কূটনৈতিক