ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি সীমান্তবর্তী আল-তুওয়াল এলাকায় কমান্ড সেন্টার, অস্ত্রের গুদাম ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
হুথিদের দাবি, আল-দাগারির ক্যাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল এবং জিজানের আরও কয়েকটি সৌদি সামরিক ক্যাম্পও হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলায় সৌদি, ইয়েমেনি ও সুদানি বাহিনীর ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এগুলোর লক্ষ্য ছিল তায়েফ ও ইয়ানবু। সৌদি কর্তৃপক্ষ আল-তুওয়াল বা আল-দাগারিরে হুথিদের দাবিকৃত হামলার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি।
এই হামলার দাবির সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তের কাছে সৌদি সামরিক তৎপরতা নিয়ে হুথিদের বক্তব্যের সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। হুথিরা বলেছে, সৌদি বাহিনীর সীমান্তে সম্ভাব্য সামরিক সমাবেশ ঠেকাতেই তারা আগাম হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি বাহিনী সেখানে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ করছিল—এমন স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সৌদি আরব বৃহস্পতিবার মক্কা, তাবুক, জেদ্দা, ইয়ানবু ও তায়েফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। পরে সিভিল ডিফেন্স জানায়, বিপদ কেটে গেছে। একই দিনে ইয়ানবু অঞ্চলে গ্রিক সামরিক সদস্যদের পরিচালিত একটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে রয়টার্সকে সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তথাকথিত নৌ অবরোধ ঘোষণার পর তারা সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ও হামলার দাবি করে আসছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধের পাশাপাশি সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তও নতুন করে উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
সূত্র: আল জাজিরা