সৌদির ইয়ানবু বন্দরে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তায় সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মাখোঁ বলেন, জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে বন্দরটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ানবু ও এর সঙ্গে যুক্ত তেল পরিবহন অবকাঠামো হামলার মুখে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, ইয়ানবুর নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনাসদস্য, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকবে। তবে এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনো সংঘাতে ফ্রান্সকে জড়ানো নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাখোঁ বলেন, স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখার জন্য সামরিক সক্ষমতা পাঠানো হবে, সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থা। সেপ্টেম্বরের হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব সেটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে।

ইয়ানবুকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। এর আগে হুথিরা ইয়ানবুর একটি আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়ানবুর দিকে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও মন্তব্য করেন মাখোঁ। হোয়াইট হাউস এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বিবেচনায় নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। মাখোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের মাটিতে সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেন মাখোঁ। একই সঙ্গে শীত মৌসুম সামনে রেখে দেশের গ্যাস ও তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তিনি বলেন, ফ্রান্সে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স