ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে এ বছর ১০ আরব নাগরিক নিহত

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইয়াফা আন-নাসেরাহতে পুলিশের গুলিতে ৩০-এর কোঠার এক আরব নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চলতি বছর ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে নিহত আরব নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইয়াফা আন-নাসেরাহতে পুলিশের গুলিতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে তাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। পরে তাকে নাজারেথের ইংলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, তাদের সদস্যরা একজনকে একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে একটি ভবনের দিকে গুলি চালাতে দেখেন। এরপর পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের বক্তব্য।

ওয়াফার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে আরব নাগরিক নিহত হওয়ার নথিভুক্ত সংখ্যা এখন ১০। আগের নয়টি ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশের গুলির পরিস্থিতি নিয়ে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাদা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগে পুলিশের গুলিতে নিহতদের মধ্যে উম্ম আল-ফাহম, আক্রে, কাবুল, ইয়ারকা, রাহাত, লোদসহ বিভিন্ন এলাকার আরব নাগরিক রয়েছেন।

তবে এসব ঘটনার প্রতিটির পরিস্থিতি এক নয় এবং পুলিশের গুলির বৈধতা বা দায় নির্ধারণের বিষয়টি পৃথক তদন্তের বিষয়।

ইসরায়েলি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াফা আন-নাসেরাহর সর্বশেষ ঘটনায় নিহত ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে গুলি চালাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সংগঠনগুলো পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ওয়াফার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরব নাগরিকদের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর আগের কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত হলেও কোনো কোনো মামলা পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের মধ্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে। পুলিশের ভূমিকা, অস্ত্রধারীদের মোকাবিলায় গুলির ব্যবহার এবং এসব ঘটনার তদন্ত—সবই দেশটির আরব সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু হয়ে আছে।

ইয়াফা আন-নাসেরাহর ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং পুলিশি গুলির পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যেতে পারে।