ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে মেইতেই-কুকি বিরোধের পাশাপাশি এবার তাংখুল নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা চড়াও হয়েছে। সম্প্রতি মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সাতজন প্রাণ হারানোর পর সমগ্র পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তামেই শহরগামী ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এনকে উইফেনবোকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। লিয়াংমাই নাগা সম্প্রদায়ের এই কিশোরের পাশাপাশি মাঠে কর্মরত কুকি সম্প্রদায়ের দুই নারীও সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এর বাইরে সেনাপতি জেলার কালেনজাং গ্রামে হামলা চালিয়ে আরও তিন নাগা সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গত সাত মাসে মণিপুরে অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং দুই দশকের পুরোনো ভূমি ও আধিপত্যের লড়াই নতুন রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগারা নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকলেও কুকিরা বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মূল সংঘাতের কারণ হলো এই পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমির মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের পুরনো দ্বন্দ্ব।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উখরুল জেলায় তুচ্ছ ব্যক্তিগত বচসাকে কেন্দ্র করে বহু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পর থেকেই দুই সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে।
কুকি সংগঠনগুলোর দাবি, এনএসসিএন-আইএম এবং অন্যান্য নাগা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই অস্থিরতা তৈরি করছে। অন্যদিকে নাগা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, 'সাসপেনশন অব অপারেশনস' চুক্তির সুযোগ নিয়ে কুকি কট্টরপন্থীরা সাধারণ নাগাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
সহিংসতা রুখতে মণিপুরে বিশাল পুলিশ, আসাম রাইফেলস ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি নাগা সংগঠনগুলোর টানা ছয় মাসের মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও কট্টরপন্থীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাটেনি। কয়েকটি গণহত্যার মামলার তদন্তের ভার ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ-কে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা