যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ক্রিস্টা পাইকের এই শাস্তি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কার্যকর করার কথা রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড এরই মধ্যে একাধিক আদালত বহাল রেখেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ঘনিয়ে আসায় নারী অধিকারকর্মী ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন তার জীবন রক্ষার দাবি জানিয়েছে। তারা টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করার আবেদন করেন। তাদের যুক্তি, অপরাধের সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। এ ছাড়া শৈশব ও কৈশোরে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এসব বিষয় তার শাস্তি নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
তবে সোমবার গভর্নর বিল লি পাইকের আইনজীবীদের করা ২২৬ পৃষ্ঠার ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর শেষ আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। টেনেসির গভর্নর বিল লি ক্রিস্টা পাইকের ক্ষমার আবেদন নাকচ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লি বলেন, ‘ক্রিস্টা গেইল পাইকের ক্ষমার আবেদনটি ভালোভাবে বিবেচনা করেছি এবং মামলাটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি। এরপর আমি টেনেসি রাজ্যের দেওয়া দণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই।’
১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে পাইক তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ এবং আরেক কিশোরী শ্যাডোলা পিটারসন মিলে কলিন স্লেমারকে নক্সভিলের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে স্লেমারকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। তিন কিশোর-কিশোরী নক্সভিল জব কর্পসের মাধ্যমে একে অপরের পরিচিত ছিলেন।
প্রসিকিউটরদের দাবি, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। হত্যার সময় তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকের বিরুদ্ধেই মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য। অন্যদিকে শ্যাডোলা পিটারসন পাইক ও শিপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। পরে তাকে প্রবেশনের সুযোগ দেওয়া হয়।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তিনি হবেন আধুনিক যুগে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম ব্যক্তি। এ ছাড়া ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর পর পাইক হবেন দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১৯তম নারী।
পাইকের আইনি লড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি আলাদা আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাইকের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেননি।