ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন রয়েছেন। নতুন মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিনে পৌঁছাতে পারে।
নতুন মোতায়েনের অংশ হিসেবে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। মাকিন আইল্যান্ডের সঙ্গে ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ রয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরি রয়েছে। নতুন মোতায়েন সম্পন্ন হলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা
এই সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা বাড়ানো “সম্ভব”।
তবে কোথায় বা কী ধরনের হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তার কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবসহ সামগ্রিক প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে ইরান যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। প্রস্তাবটির পাশাপাশি তেহরান নতুন করে মার্কিন হামলা হলে আরও কঠোর পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাই ঘটনায় ইরানের যোগসূত্রের অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন সেনা পাঠানোর সময়ই ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ককপিটের ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিমানটি পরে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনায় বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
ট্রাম্প বলেছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ইরানের সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং তদন্ত এখনো চলছে। ইরানের সঙ্গে যোগসূত্র নিশ্চিত হলে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
বাড়ছে সামরিক উপস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন মোতায়েন এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা খুব একটা এগোচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরান আগের তুলনায় আরও ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মার্কিন স্বার্থ ও আঞ্চলিক মিত্রদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফলে একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন—দুই বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া একই সময়ে এগোচ্ছে। নতুন মার্কিন সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।