ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দেশটির ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ভিয়েনায় নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমালোচনা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক পোস্টে উলিয়ানভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সম্ভবত জানেন না যে- ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়নি। তার দাবি, পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। উলিয়ানভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রশাসনের অবস্থান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-এর কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ দূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন এবং পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগে অস্বীকৃতির অভিযোগ তোলার পর উলিয়ানভ তার প্রতিক্রিয়ায় এসব মন্তব্য করেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থানের এই পার্থক্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে, অন্যদিকে মস্কো তেহরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকারকে সমর্থন করে আসছে।
উলিয়ানভের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, আইএইএর তদারকি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ নাকি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু সক্ষমতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ফলে পরমাণু কর্মসূচির অধিকার, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। মিখাইল উলিয়ানভের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রশ্নে রাশিয়া ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অধিকারকে সমর্থন করছে।