আটলান্টিকে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, খোঁজ মেলেনি ৬ জনের

আটলান্টিক মহাসাগরে ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূলে প্রায় ২৭ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে ধ্বংসাবশেষটির সন্ধান পাওয়া যায়। তবে বিমানে থাকা ছয়জনের কোনো খোঁজ এখনো মেলেনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোস্ট গার্ড জানায়, ওই দিন ভোরে বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে ন্যানটাকেটের উপকূলে তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাওয়া যায়। সেটি নিখোঁজ বিমানটির বলে নিশ্চিত করা হয়।

বিমানটি ছিল গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। এতে একজন রোগী, তাঁর পরিবারের একজন সদস্য এবং চারজন ক্রু ছিলেন। রোগী ও তাঁর স্বজন বারমুডার নাগরিক। চারজন ক্রু কানাডার নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।

ন্যানটাকেটের কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে রেডিও যোগাযোগ থেকে জানা গেছে। বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকেরা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে এক নিয়ন্ত্রক পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দিকনির্দেশনা দেখতে পাচ্ছেন কি না এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন কি না। তবে লাইভএটিসি ডটনেটে ধারণ করা কথোপকথনের রেকর্ডে পাইলটের উত্তর শোনা যায়নি।

ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এরপর স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর সেটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও ছয় আরোহীর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে কোস্ট গার্ড। নৌযান, উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইল বা ৪ হাজার ২৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।

বিমানে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বারমুডা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছয়জনের নিরাপদে উদ্ধারের আশা জানান। একই সঙ্গে উদ্ধার ও তল্লাশি দলের চলমান প্রচেষ্টার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান