হরমুজ সংকট ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে কোণঠাসা ট্রাম্পের নির্বাচন

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের মন জয় করতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রতিশ্রুতির আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুল্ক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্থে এটি মেটানোর কথা বলা হলেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ জাতীয় ঋণ রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা একে সরাসরি ভোট কেনার কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রবীণ ভোটারদের টানতে মেডিকেয়ার তহবিলের আওতায় প্রায় ১০০ ডলারের চেক দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এই সহায়তা খুবই সামান্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব আর্থিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। টেক্সাসে জ্বালানি সংকটের জেরে ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন গভর্নর।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির সাধারণ মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে। ফলে রিপাবলিকানদের দুর্গেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক প্রার্থী ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করছেন। তবে কংগ্রেসের বড় একটি অংশ এখনও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

লারা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে পারমাণবিক ঝুঁকি এড়াতে এই মূল্য দেওয়া জরুরি বলেও যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে ডেমোক্র্যাটরা। পেট্রোলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিকে হাতিয়ার করে তারা ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

কৃষি ও পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আইওয়া ও ওহাইওর কৃষকরা ক্ষুব্ধ। ডেমোক্র্যাটরা এই অসন্তোষকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প ও তার দল এক গভীর কৌশলগত সংকটে পড়েছে। একদিকে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি এবং অন্যদিকে যুদ্ধের চাপ রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে।