'লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো ধ্বংস হয়ে গেলেও সমস্যা নেই'

বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ডিয়েগো শহর ধ্বংসের ঝুঁকি নিয়েও দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি খোদ রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন নেতাও প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

নেব্রাস্কায় একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক লড়াইয়ে জয়ী হতে আমেরিকানদের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে, এর মধ্যে ইরানের সম্ভাব্য হামলায় মার্কিন শহরগুলোর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো বড় মূল্য পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, "বিশ্বকে নিরাপদ রাখা এবং আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এটি একটি ছোট মূল্য মাত্র।" ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও সারের দামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "তারা একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস ধ্বংস করে দিক, সান ডিয়েগো ধ্বংস করে দিক। এটি অত্যন্ত ছোট একটি মূল্য, এবং খুব শীঘ্রই এর অবসান ঘটতে চলেছে।"

উল্লেখ্য, বর্তমানে অষ্টম মাসে গড়ানো এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে এবং বিভিন্ন জনমত জরিপেও তা স্পষ্ট। এর আগে কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হলেও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর এবং ট্রাম্পের কড়া সমালোচক গ্যাভিন নিউসাম এই মন্তব্যকে "উন্মাদনা ও বিপজ্জনক" বলে অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ট্রাম্পের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান। নিউসাম বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট—যিনি অতীতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড এবং সক্রিয় সেনাসদস্য পাঠিয়েছিলেন—তিনিই এখন প্রকাশ্যেই ইরানকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো ধ্বংস করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।"

রিপাবলিকান পার্টি থেকেও এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সান ডিয়েগো সংলগ্ন এলাকায় প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রিপাবলিকান নেতা জিম ডেসমন্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এক্সে লেখেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমেরিকাকে অবশ্যই ইরানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, তবে আমাদের সর্বাধিনায়কের প্রথম দায়িত্ব হলো মার্কিন জনগণকে এবং আমাদের স্বভূমিকে রক্ষা করা। কোনো মার্কিন শহরই ফেলনা নয় এবং কোনো মার্কিন পরিবারকেই কখনো জামিনদার বা কোলাটেরাল ড্যামেজ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।"

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা কেভিন কিলিও ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে "সহায়তাহীন ও অপ্রাসঙ্গিক" বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে সমালোচকদের দাবি খারিজ করে হোয়াইট হাউস একে মিডিয়ার অহেতুক মাতামাতি বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট খাতের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "তিনি পরিষ্কার করে বোঝাতে চেয়েছেন যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে প্রতিহত না করলে মার্কিন শহরগুলো হুমকির মুখে পড়ত। প্রেসিডেন্টের কারণে আজ আমেরিকা অনেক বেশি নিরাপদ। বর্তমানে ইরানের কোনো পারমাণবিক সক্ষমতা, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বা অর্থ নেই।"

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল এবং বৃহৎ অর্থনীতি সমৃদ্ধ রাজ্য। জনসংখ্যার দিক থেকে প্রতিনিধি পরিষদে রাজ্যটির আসন সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৫২টি)। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা