আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লিতে নামছে ২৩ হাজার সেনা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকটে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীতে প্রায় ২৩ হাজার আধাসামরিক সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে প্রায় ২২১ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী দিল্লিতে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশও তাদের নিজস্ব সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

এদিকে নজিরবিহীন এই উত্তেজনার মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। তার বাসভবন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত সমাবেশে অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি সরাসরি অংশ নিয়ে ভোটার তালিকা থেকে জীবিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

ধ্রুব রাঠি তার বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। এই সমাবেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।

দিল্লিতেও বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা রাজঘাট অভিমুখে যাত্রাকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এবং তাদের অনেককে আটক করা হয়।

সংকট নিরসনে অরুন্ধতী রায়, জঁ দ্রেজ, সোনম ওয়াংচুক এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীরাও এই আন্দোলনের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আন্দোলন এখন জাতীয় রূপ নিয়েছে।

আগামী ১০ অক্টোবরের ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।