রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি ট্রাম্পের, ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে বড় পরিমাণে ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা এলো।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল "মার্কিন ও বৈশ্বিক বাজারে" সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। এরপর আগামী নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এছাড়া রুশ শোধনাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মুদ্রাস্ফীতি এবং আকাশচুম্বী জ্বালানি মূল্য নিয়ে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম রেকর্ড ৬.৫৩ ডলারে পৌঁছায়, যা বর্তমানে কিছুটা কমে ৬.২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে এই চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পুতিনকে এই ধরনের উপহার শান্তির পথ সুগম করবে না, বরং এটি এমন একটি যুদ্ধে পরোক্ষ বিনিয়োগ যা দীর্ঘায়িত করবে। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রুশ শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যা ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

এদিকে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ইউক্রেনের হামলার মুখে ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলো দিয়ে রাশিয়া সত্যিই এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে কি না। পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যে পরিমাণ সরবরাহের কথা বলছেন তা মার্কিন বাজারের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় পাম্পের দামে এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইউকে (UK) সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই ইউক্রেনকে সহায়তা করে যাওয়ার ব্যাপারে তারা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে, এই চুক্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে ইউরোপীয় মিত্র ও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি