ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক হয়েছেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা আটক থাকায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে।
১০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দীপকে জানান, তিনি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে অজিঙ্ক্য শিন্ডে আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করবেন। ভিডিওটি আগের রাতেই ধারণ করা হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
শিন্ডে সমর্থকদের যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ যেখানে তাদের থামাবে, সেখানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার বক্তব্য, সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের ঐক্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কে এই অজিঙ্ক্য শিন্ডে?
অজিঙ্ক্য শিন্ডের বয়স ৩৫ বছর। তিনি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে তিনি পুনেতে একটি আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরে তিনি আম আদমি পার্টিতে (আপ) পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে যোগ দেন। রাজনীতিতে আসার আগে প্রযুক্তি খাতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও একপর্যায়ে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রচারে নিজেকে যুক্ত করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বাবা-মা প্রথমে আলিবাগ এলাকায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তারা মহারাষ্ট্রের লাতুরে বসতি স্থাপন করেন।
আপ থেকে সিজেপি; রাজনৈতিক পথচলা
শিন্ডে আম আদমি পার্টির পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পূর্ণকালীনভাবে যুক্ত হওয়ার পর তিনি গোয়ার নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রায় এক বছর কাজ করেন। তবে সেখানে আপের পক্ষে আসন নিশ্চিত করতে পারেননি। এরপর তিনি মহারাষ্ট্রে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোয় যুক্ত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, সেখানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমন্বয়কারী এবং আপের মহারাষ্ট্র যুব শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে গোয়ায় অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
চলতি বছরের আগস্টে দীপকে শিন্ডেকে সিজেপির জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং জাতীয় সংগঠনবিষয়ক দায়িত্ব দেন। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তার অবস্থান প্রতিষ্ঠাতা দীপকে এবং অন্য শীর্ষ নেতাদের পরের সারিতে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিজেপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। সে সময় গুজরাটের দুই স্বেচ্ছাসেবক দীপকের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। এটি তাদের অভিযোগ; স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের সময় দীপকে, রাঙ্কা ও দাস দলের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তাদের আটকের পর শিন্ডেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ায় দলটির আন্দোলনে তার সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও সামনে এসেছে।
আটক নেতাদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের আটকের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন শিন্ডের ওপর। সমর্থকদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আহ্বান এবং বাধার মুখে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার নির্দেশ তার নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কতটা বিস্তৃত হবে, কতজন সমর্থক এতে অংশ নেবেন এবং আটক নেতাদের মুক্তির পর দলের কৌশলে পরিবর্তন আসবে কি-না তা এখনো স্পষ্ট নয়।