বিরোধীরা ‘বিদেশি শক্তির’ ইন্ধনে দেশকে অস্থিতিশীল করছে: বিজেপি

ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তার দাবি, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ‘বিদেশি শক্তির’ ইন্ধনে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে নিতিন নবীন বলেন, ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখছেন। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘আজ দেশে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। ১৪০ কোটি মানুষ যেখানে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখছেন, সেখানে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো- এটা করছে কারা?’

বিরোধীদের দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ করে নিতিন নবীন বলেন, একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ‘ইন্ডি অ্যালায়েন্স’। অন্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তিনি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগী এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এই দুই গোষ্ঠীকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের মানুষ আপনাদের উদ্দেশ্য খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভসহ বিরোধীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে ‘অরাজকতার প্রতিযোগিতা’ আখ্যা দিয়ে বিজেপি সভাপতি অভিযোগ করেন, দেশে কারা বেশি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তা নিয়ে বিরোধীরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। তবে তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিতিন নবীনের ভাষ্য, জনগণ যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের উচিত ছিল সেই রায় মেনে নেওয়া এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিন্তু এর পরিবর্তে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই রায় মেনে নেওয়া বা তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’ এরপর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন নিতিন নবীন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

এদিকে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।