সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরটিতে হামলার পর হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশি দুজন এবং অন্য দেশগুলোর প্রত্যেকটির একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ইয়েমেনে যুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের স্থল অভিযানে সহায়তা দিতে সৌদি আরব বিমান হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ ও দেশটির প্রকৃত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগির কথা বলবেন। হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো যোগ দেব। বিষয়টি আমরা দেখছি। হামলার খবর এই মাত্র পেয়েছি। সিদ্ধান্ত নেব, এবং খুব দ্রুতই নেব।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি ‘এ ধরনের নিন্দনীয় হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের পাশে আছি। নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
জাতিসংঘ
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী এ হামলাকে ‘গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি, সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।
অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথিদের হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি ‘চরম অবজ্ঞা’।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাকে সৌদি সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষ, বেসামরিক স্থাপনা ও আকাশপথের নিরাপত্তার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে। সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে দোহা বলেছে, দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের সুরক্ষায় রিয়াদের নেওয়া ‘সব বৈধ পদক্ষেপ’কে কাতার সমর্থন করে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটির নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় সৌদি আরবের নেওয়া সব পদক্ষেপেরও সমর্থন জানিয়েছে তারা।
সৌদি আরবে জাপানের দূতাবাস হুথিদের বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা যায় না।