এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে নিজেদের ভূখণ্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিকের বেশি মানুষ আহত হওয়ার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি প্রশাসন কীভাবে এর জবাব দেবে?
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে গত সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছিল রিয়াদ। কিন্তু হুথি বিদ্রোহীরা নতিস্বীকার না করে উল্টো সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিরা সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা আরও জোরদার করবে। এই হামলাকে এখন কেবল আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং ওয়াশিংটনের সাথে ইরানের বিরোধের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সৌদির সামনে সীমিত বিকল্পসমূহ
এক দশকের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হুথিদের অগ্রগতি রোধে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও তাঁর ভাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের সামনে এখন বিকল্প পথ অত্যন্ত সীমিত। ইয়েমেনের পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সৌদি স্থলবাহিনী সরাসরি পাঠালে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে, যা সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।
রাজনীতি ও সৌদি বিষয়ক বিশ্লেষক আলি শিহাবি সিএনএনকে জানান, এই হুমকি চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এটি অনেকটাই নির্ভর করছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ওপর, যাদের সৌদি আরব বিমান শক্তি দিয়ে ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে। তবে সরাসরি মার্কিন বিমান সহায়তা যুক্ত হলে তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক বেশি কার্যকর হতো।
হুথিদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও এআই প্রযুক্তি
বিগত দুই দশকে ইরানি সহায়তায় হুথিরা একটি পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন রিয়াদ থেকে তেল আবিব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, উত্তর ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা রকেটের দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Guidance System) উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর ক্লোড (Claude) এআই টুলস ব্যবহার করেছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, হুথিদের নতুন এসব ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দ্রুতগামী এবং থার্মাল-ট্রেকিং সিস্টেমের মাধ্যমে যেকোনো তাপ উৎসের দিকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য ভেদ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও সিরিয়ার সমর্থন চেয়েছে রিয়াদ। তবে সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের ওপর বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে যৌথ কমান্ডের অধীনে ১০০ জনেরও বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছে।
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দর হামলায় এক মার্কিন নাগরিকও নিহত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও শেষ পর্যন্ত এই সামরিক অভিযানে সরাসরি যোগ দিতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদিরা ভালো যোদ্ধা। তবে হামলাটি একটি ভয়াবহ ঘটনা ছিল। আমেরিকা এই হামলায় যোগ দেবে কি না—আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। আমরা হয়তো অংশ নিতেও পারি।
সূত্র: সিএনএন