ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের অবদান কতটুকু?

যুদ্ধের সাফল্য আর বিতর্ক—দুইয়ের ছাপ নিয়েই ঘরে ফিরল যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। দীর্ঘ ৩২১ দিনের সমুদ্রযাত্রা শেষে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোয় পৌঁছেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যুদ্ধজাহাজ। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না লিঙ্কনের।

রণতরীটির গায়ে আঁকা ‘কিল মার্ক’ বা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের প্রতীকী চিহ্ন, পেন্টাগনের দেওয়া সাফল্যের পরিসংখ্যান এবং দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকা নাবিকদের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মার্কিন নৌবাহিনীর এই যুদ্ধজাহাজ।

গত ৮ অক্টোবর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর নর্থ আইল্যান্ড নৌ-বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায় ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। সেখানে রণতরীটির নাবিকদের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিট সাইটেশন’ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো ইউনিটের অসাধারণ বীরত্ব ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

রণতরীটি পরিদর্শনে গিয়ে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথ। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে লিঙ্কনের অবদানকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে রণতরীর গায়ে থাকা চিহ্নের হিসাবের পার্থক্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

৩২১ দিনের সমুদ্রযাত্রা, ৩ হাজার ৬৯৩টি সামরিক উড্ডয়ন

হেগসেথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত চলাকালে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে যুদ্ধবিমানের ৩ হাজার ৬৯৩টি সামরিক উড্ডয়ন পরিচালিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অভিযানে ইরানের ৬৪টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ৪৫০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন যুদ্ধসচিব আরও জানান, ইরানের ছোড়া ৭৭টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে লিঙ্কনে মোতায়েন নৌবাহিনীর সদস্যরা।

তবে এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই এবং কোন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে রণতরীটির প্রত্যক্ষ ভূমিকা কতটা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বাধীন বহরের সম্মিলিত সাফল্য এবং শুধু ওই রণতরী থেকে পরিচালিত অভিযানের ফল এক বিষয় নয়।

রণতরীর গায়ে ১৯০টি চিহ্ন, সংখ্যার হিসাব আলাদা

সান দিয়েগোয় ফেরার পর পেন্টাগন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে রণতরীটির ডেকের ওপরের কাঠামোর কাছে দাঁড়িয়ে সেটি পরিদর্শন করতে দেখা যায় হেগসেথকে। ওই সময় তিনি জাহাজের একটি ইস্পাতের দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন প্রতীক ও চিহ্নও দেখেন।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, দেয়ালটিতে মোট ১৯০টি চিহ্ন রয়েছে। সামরিক অভিযানে অর্জিত সাফল্য বা ধ্বংস করা লক্ষ্যবস্তুর হিসাব প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের চিহ্ন ব্যবহারের রীতি রয়েছে। তবে প্রতিটি চিহ্নের অর্থ এবং কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তুকে তা নির্দেশ করছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

দেয়ালে আঁকা চিহ্নের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে লিঙ্কন থেকে ২৩টি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ৩৪টি জাহাজ, ১২২টি ড্রোন এবং ১০টি ডুবোজাহাজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেয়ালে একটি বড় বোমার প্রতীকও দেখা যায়, যার গায়ে লেখা রয়েছে ‘১৪০৩’।

এখানেই দেখা দিয়েছে বড় অসংগতি। হেগসেথ যেখানে ৬৪টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের কথা বলেছেন, সেখানে দেয়ালের চিহ্নের হিসাব অনুযায়ী জাহাজের সংখ্যা ৩৪টি। আবার তিনি ৭৭টি ড্রোন ধ্বংসের কথা বললেও দেয়ালে থাকা চিহ্নের সংখ্যা ১২২।

তবে এই পার্থক্য থেকেই সরাসরি তথ্য জালিয়াতির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। দেয়ালের প্রতীকগুলো কোন সময়কাল, কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু কিংবা কী ধরনের সামরিক সাফল্য নির্দেশ করছে, তা পরিষ্কার না হলে দুই হিসাবের সরাসরি তুলনাও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

ইরানের নৌবহরে বড় আঘাতের দাবি

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় দেশটির নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।

সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ড্রোনবাহী জাহাজ ‘শহিদ বাঘেরি’, সামরিক সহায়তাকারী জাহাজ ‘আইরিস মাকরান’, একটি জামারান-শ্রেণির করভেট এবং শহিদ সোলেইমানি-শ্রেণির চারটি ক্যাটামারান ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট ধ্বংস করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের বায়ানডোর-শ্রেণির করভেট, একাধিক ফ্রিগেট, দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌকা, মাইন পাতা জাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক জাহাজ নিষ্ক্রিয় করার দাবিও করেছে মার্কিন বাহিনী।

তবে এসব অভিযানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কতটা ছিল, তা স্পষ্ট নয়। একটি বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার, ডুবোজাহাজ ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজও পৃথকভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। ফলে পুরো বহরের সম্মিলিত সাফল্যকে শুধু লিঙ্কনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখার আগে অভিযানভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

টমাহক থেকে এফ-৩৫সি, কীভাবে পরিচালিত হয়েছে অভিযান?

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন একটি বিমানবাহী রণতরী। এর প্রধান সামরিক শক্তি হলো বহন করা যুদ্ধবিমান এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এফ-৩৫সি লাইটনিং টু এবং এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান ব্যবহারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।

অন্যদিকে, লিঙ্কনের সঙ্গে থাকা আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলো বহরের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব জাহাজে রয়েছে এজিস কমব্যাট সিস্টেম এবং বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এসএম-২, এসএম-৬ ও ইভলভড সি স্প্যারোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিঙ্কনের সঙ্গে ইউএসএস স্প্রুয়ান্স, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসেন নামের তিনটি ডেস্ট্রয়ার ছিল।

এ ছাড়া রণতরীটির নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে রোলিং এয়ারফ্রেম মিসাইল বা র‍্যাম এবং ফ্যালাঙ্কস ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম। কাছাকাছি দূরত্বে আসা নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হুমকি মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।

ইরানের ড্রোন হামলার মুখে যুদ্ধবিমান ও জাহাজভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কতটি ড্রোন কোন অস্ত্রের সাহায্যে ধ্বংস করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া প্রতিটি ব্যবস্থার কার্যকারিতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন।

ইরানের ডুবোজাহাজ ধ্বংস নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরানের নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা হলো ডুবোজাহাজ। সমুদ্রের নিচে চলাচল করতে পারায় এগুলোকে শনাক্ত করা কঠিন। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি, জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের নৌবহরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ডুবোজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ডুবোজাহাজের বহর ধ্বংসের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী বড় সাফল্য পেয়েছে। তবে কোন ডুবোজাহাজ কোথায় এবং কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

ডুবোজাহাজ ধ্বংসে যুদ্ধবিমান থেকে লেজার-নির্দেশিত বোমা ব্যবহারের একটি ধারণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে পেন্টাগনের সূত্রের বরাতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এখানে অস্ত্র ব্যবহারের ধরন নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে, কিন্তু শুধু এ সক্ষমতার ভিত্তিতে ইরানের ডুবোজাহাজ ধ্বংসে রিপার ব্যবহৃত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। একইভাবে, যুদ্ধবিমান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

দীর্ঘ মোতায়েন, নাবিকদের অসন্তোষের অভিযোগ

লিঙ্কনের যুদ্ধকালীন সাফল্য নিয়ে আলোচনা চললেও এর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ঘিরে নাবিকদের মানসিক চাপ ও অসন্তোষের অভিযোগও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করে রণতরীটি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পৌঁছেছিল। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেভি টাইমস’ ও ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রতিবেদনের বরাতে দাবি করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনগুলোতে কয়েকজন নাবিকের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁদের একাংশের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি, জাহাজে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

দীর্ঘ সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকা, অনিশ্চিত যুদ্ধপরিস্থিতি, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা—এসব কারণে নৌসেনাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। কিন্তু লিঙ্কনের ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণ করতে স্বাধীন প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক নথি প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও অস্বস্তির প্রশ্ন?

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রত্যাবর্তন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি দীর্ঘ সামরিক মোতায়েনের সমাপ্তি। কিন্তু একই সঙ্গে এটি যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল, সামরিক সাফল্যের হিসাব এবং নাবিকদের কর্মপরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ তৈরি করেছে।

একদিকে যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথ রণতরীটির ভূমিকাকে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, দেয়ালে থাকা চিহ্নের সঙ্গে তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যানের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

যুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনী সাধারণত নিজেদের অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে। কিন্তু কোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং অভিযানে ব্যবহৃত প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের অবদান এক বিষয় নয়। নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন যাচাই, সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এবং অভিযানভিত্তিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।