ইরানের কৌশলগত শিল্পগুলোর চাহিদা মেটাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে যন্ত্রনিয়ন্ত্রণ ও শিল্পকারখানার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি করছেন দেশটির পরমাণু বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রযুক্তি তেল শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, ইস্পাত শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার (এইওআই) প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামী বলেন, কৌশলগত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থায় ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
তিনি জানান, বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও মেরামতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কারণে ইরানকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা নিজস্ব সক্ষমতা ও ইরানি বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি করছে। ইসলামীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সরঞ্জাম আধুনিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রয়োজন মেটানো যায়। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
পরমাণু প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এইওআই প্রধান বলেন, এ প্রযুক্তির প্রয়োগ কেবল একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষায়, ‘পরমাণু প্রযুক্তি জীবন, শক্তি ও অগ্রগতির প্রযুক্তি।’ উন্নত এ প্রযুক্তির সক্ষমতা কাজে লাগানোর অধিকার ইরানি জনগণের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আরও বলেন, ইরানি বিশেষজ্ঞদের অর্জিত প্রযুক্তিগত সাফল্য বিদ্যমান কাঠামো ও ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ ও উন্নত করা হচ্ছে। তার মতে, এ প্রক্রিয়া বিজ্ঞান, শিল্প ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির পথ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি প্রযুক্তি সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ইরানের দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের চাহিদা পূরণ করছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।