এক সপ্তাহে সৌদির পাঁচ বিমানবন্দরে ১০ হামলা

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে এই তথ্য জানায় জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। তবে ড্রোনটির উৎস, উৎক্ষেপণস্থল কিংবা হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে এ হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গোষ্ঠীটি কোনো তথ্য দেয়নি।

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কসংকেতের কারণে রাজধানী রিয়াদ ও পাশের আল-খারজ গভর্নরেটের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে মোট ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ২০ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাঁচবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হতাহতের তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং হামলাগুলোর বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।

সৌদি-হুথি সংঘাতের নতুন উত্তেজনা

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা জুলাই থেকে নতুন করে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচলের স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে সর্বশেষ ড্রোনটির উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনাটিকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।