ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ দাবিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ত্রিরঙ্গা পতাকা উড়িয়ে দাও’।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আয়োজকেরা।
যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় দুই দিন আগে ককরোচ জনতা পার্টির অপর দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে গত ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরে আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অভিজিৎ। ওই দিন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের যন্তরমন্তরে জড়ো হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে তাঁরা তা করতে পারেননি। সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অভিজিৎ ও তাঁর সহযোগীরাও ছিলেন। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও ওই দিন আটক করা হয়।
অভিজিৎ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার জন্য।
তিনি বলেন, ‘সংগঠন, দিল্লির সব তরুণ রাস্তায় লড়াই করছে। তাদের রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নেহাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আয়েশাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ভিল্লাজকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কার জন্য? জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর জন্য।’
অভিজিতের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার নিজেদের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে কেন এত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য তরুণকে দিল্লিতে কোনো আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না। জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া সেন্ট্রাল পার্ক এবং যন্তরমন্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এসব এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া।