ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জের মূল্যায়ন অনুযায়ী, থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ২০৩০ সাল পর্যন্ত কৌশলগতভাবে নিম্ন পর্যায়ে থাকতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে এমন উদ্বেগের বিরোধিতা করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের গ্লোবাল ফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যালোকেশন প্ল্যান-এ জর্জের মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে বলা হয়, টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ইন্টারসেপ্টর এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ২০৩০ সাল পর্যন্ত কৌশলগতভাবে কম থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ ঘাটতির পেছনে কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ইসরায়েলকে রক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনশিল্পের সীমাবদ্ধতা।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহারের হিসাব
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল।
ইরান যুদ্ধের সময় এর মধ্যে আনুমানিক ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৪৩০টি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ওই হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হিসাবটি সঠিক হলে যুদ্ধের আগে থাকা মজুতের প্রায় ৪৬ থেকে ৬১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুমানিক ৩৫৫টি থাড ইন্টারসেপ্টর ছিল বলে সিএসআইএসের হিসাব। সংঘাতের সময় এর মধ্যে ১৯০ থেকে ২৯০টি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সে হিসাবে যুদ্ধপূর্ব মজুতের প্রায় ৫৪ থেকে ৮২ শতাংশ ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা সিএসআইএসের অনুমানভিত্তিক হিসাব; এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত চূড়ান্ত মজুত-পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে পেন্টাগনের আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে একমত নয়। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেবেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সে অনুযায়ী হামলা চালানোর প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির অস্ত্রভান্ডার পর্যাপ্ত এবং প্রস্তুত।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে পেন্টাগন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের বিরোধিতা করেছে। তবে যুদ্ধের সময় কত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, বর্তমান মজুত কত এবং উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণে কত সময় লাগবে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান ছাড়া পরিস্থিতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন কঠিন।
সাবেক সেনাপ্রধানকে সরানোর বিষয়টিও আলোচনায়
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন বলে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে তাঁর সতর্কতার কারণেই তাঁকে সরানো হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।