যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় শিশুসহ নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তবে কে তাকে গুলি করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেন্ড পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো সাধারণ ব্যক্তি হামলাকারীকে গুলি করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত অন্তত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হয়নি।

পুলিশ জানায়, জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ প্রথমে ফোন করে একটি গাড়িতে গুলির খবর দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটি ফোন আসে। সেসব ফোনে জানানো হয়, এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গুলি চালাচ্ছেন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিরাপদে মিলিত হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তদন্তে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সদস্যরা। সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ, এডুকেশন উইক ও এভরিটাউন ফর গান সেফটির তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৫২টি স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২৮ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলের ঘটনাটি চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে সংঘটিত ৩৬তম গুলির ঘটনা। তবে স্কুলে গুলির ঘটনা গণনার সংজ্ঞা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।