ওয়াশিংটন ও মস্কোর নতুন মেরুকরণে সংকটে ইউক্রেন

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার আড়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ভ্লাদিমির পুতিনের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের একের পর এক সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যা পশ্চিমা জোটের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ প্রযুক্তির গতি সীমিত করার নির্দেশ সরাসরি হোয়াইট হাউস থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলা চালানোর সক্ষমতা যেমন কমেছে, তেমনি রাজধানী সুরক্ষায় ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

এখানেই শেষ নয়, ইউক্রেনকে নিয়মিত আগাম গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে। পাশাপাশি, মস্কোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করে বিলিয়ন ডলারের রুশ তেল কেনার মার্কিন পরিকল্পনা পুতিনের সামরিক তহবিলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি দুর্বলতা—যে কারণেই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র আর 'মুক্ত বিশ্বের' ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করছে না। হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সাথে অতীতের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন তারই স্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসলেও মার্কিন প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যেকোনো দেশের সুরক্ষাকে মুহূর্তের মধ্যে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান