ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যও প্রতিরক্ষার শক্তি: ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পে অভিজ্ঞ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে অনুমোদন দিতে পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের প্রতিরক্ষাশক্তি শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়; জনগণের সমর্থন, জাতীয় ঐক্য ও সংহতিও দেশটির প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পার্লামেন্টে কেতাবচির মনোনয়ন নিয়ে বিতর্কের সময় পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অন্য দেশকে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে দেশটির ওপর হামলা হলে তারা শক্তি ও সাহসের সঙ্গে, প্রয়োজনে মৃত্যুর আগপর্যন্ত প্রতিরোধ করবে।

পেজেশকিয়ান জানান, কেতাবচি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ বছর ধরে কাজ করেছেন। এ সময়ে তিনি বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন, যাঁরা জাতীয় প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালনে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রাখতেও প্রস্তুত।

চলতি মাসের শুরুতে কেতাবচিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন পেজেশকিয়ান। এখন পার্লামেন্টে তাঁর মনোনয়ন অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হওয়ার পর নতুন মনোনয়ন

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হওয়ার পর থেকে পদটি ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। পরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল-রেজাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কেতাবচি ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি এর আগে দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মনোনয়ন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।