ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ জনের দেহাবশেষ দাফন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের দারাজ এলাকায় তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরা ও আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজা ও শেষযাত্রায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের অধিকাংশই গাজার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দারাজ এলাকার বাসিন্দাদের বলে জানা গেছে।
আলজাজিরার সংবাদদাতা নূর খালেদ জানান, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। হামলার সময় তাঁরা নিজেদের বাড়ির ভেতরে ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্রও পাওয়া গেছে। দাফনের আগে দেহাবশেষগুলো ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো হয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের জনসংযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মাজদালাউয়ি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে দারাজ এলাকার একাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির নিচ থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিকের মাসগুলোতে বাসিন্দারা ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। নিহতরা প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন লোকজনও ছিলেন, যাঁরা বাস্তুচ্যুত হয়ে ওই বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া দেহাবশেষ উদ্ধারে এখনো নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধারে দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান গত জুলাইয়ে শুরু হয়। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত প্রথম অভিযানে ৩৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই অভিযানে মোট ৫৫৯ জনের দেহাবশেষ শনাক্ত বা উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।
সংস্থাটির ধারণা, গাজা উপত্যকাজুড়ে আরও প্রায় ৮ হাজার ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজায় প্রায় দুই লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ৪৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা গাজায় এখনো বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার-সক্ষমতার ঘাটতির কারণে বহু পরিবারের কাছে তাঁদের স্বজনদের খোঁজ পাওয়া কিংবা যথাযথভাবে দাফন করার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।