কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। রোববার (১৮ অক্টোবর) আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এ তথ্য জানান। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এটি কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র।
প্রথম কানাডিয়ান ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড জানান, প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়ার কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষণ চলাকালে ঘাঁটিতে আগুন লাগে। প্রশিক্ষণ এলাকার ঘাসে আগুন ধরে যায়। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রাটল্যান্ড বলেন, আগুন লাগার সময় প্রশিক্ষণ এলাকায় একাধিক কার্যক্রম চলছিল। অস্বাভাবিক জোরালো বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দিক পরিবর্তন করে প্রশিক্ষণ এলাকার প্রশাসনিক অংশের দিকে চলে যায়।
শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘটনাকে শান্তিকালীন সময়ে দেশটির সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। রাজধানী অটোয়ায় তিনি বলেন, নিহত চার সেনাসদস্যের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো সময় সরকার পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন কার্নি। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আহতদের চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতালগুলো
সামরিক ঘাঁটিটি থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এডমন্টন শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কানাডার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি। এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক জানান, ঘাঁটির আশপাশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক আহতকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, আহতের সংখ্যা এত বেশি যে এডমন্টন শহরের হাসপাতালগুলোর পক্ষেও সামাল দেওয়া কঠিন হতো। তিনি ঘটনাটিকে ১৫ থেকে ২৫ বছরে একবার ঘটে এমন বড় ধরনের বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করেন।
ওয়েনরাইটের পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। আগুনটি ঘাঁটির দক্ষিণ দিক থেকে ছড়িয়ে সীমানাপ্রাচীর অতিক্রম করে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা মানুষের জীবন রক্ষা, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা সুরক্ষায় কাজ করছেন।
এদিকে, কানাডার চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত থাকা আলবার্টা প্রদেশে আগামী ১৯ অক্টোবর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি-না, সে বিষয়ে ভোট দেবেন প্রদেশটির বাসিন্দারা। এই ভোটের কয়েক দিন আগেই সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।