চরম তহবিল ঘাটতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে খাদ্য সহায়তা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। এর ফলে গাজার প্রায় ৫ লাখ এবং পশ্চিম তীরের প্রায় ২ লাখ মানুষ সরাসরি খাদ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউ সাম্প্রতিক ফিলিস্তিন সফর শেষে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, গাজায় জাতিসংঘ টিমের তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৫০টির মতো হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডাব্লিউএফপি কেবল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা মা-শিশু এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সীমারেখার কাছের বাসিন্দাদের বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের নিষেধাজ্ঞায়। গত সপ্তাহ থেকে খাদ্যসামগ্রীসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক সরবরাহ গাজায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস আচরণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে অতীতের মানবাধিকার সংকট এখন ধীরে ধীরে তীব্র খাদ্যসংকটে রূপ নিয়েছে।
গত তিন বছরে পশ্চিম তীরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সেখানকার প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনির জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে ডাব্লিউএফপি নিশ্চিত করেছে।
কার্ল স্কাউ নিজের চোখে পুড়ে যাওয়া জলপাই বাগান, ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্যাম্প ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। চলতি জলপাই মৌসুমে প্রথম দুই সপ্তাহেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।